পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

প্রতারনার তত্ত্ব

প্রতারনার তত্ত্ব


ঘুমঘোরে ক্লান্তিময় ঘৃণায় দুচোখ বুজে যায়
প্রিয় মুখ জেগে ওঠে যাতনায় পাশ ফিরে
ভর করে সম্ব্রান্ত খুনি সুখ ক্ষতবিক্ষত স্মৃতির লালসায়
হাতের ইশারায় সকল আঁধার কেটে হবে দিন
রাত ঢেকে যাবে গাঢ় লজ্জায়, স্বরোচিত ব্যাথারা ফিরবে ফের।

পাঁপের প্রণয়ে দুর্মূল্য শান্তির জোট হবে, ভোট হবে গণতন্ত্রের
রন্ধে রন্ধে পরাধনিতার বীজ দুজনার স্বভাবে পুঁতে ছিল
পাতকির দল তার কতক ভেঙেছি চুরমার করে দিয়ে,
সাজিয়েছি কতক রঙিন মূর্চ্ছনার প্রতারনায়।

জেগে উঠি বারবার, হাততালি, ইর্ষায়, ঘৃণার আলিঙ্গণে জড়ানো নিস্তব্ধতায়।
এগোনোর সবকালে সবযুগে সময়ে-অসময়ে খাবি খায়!

কেউ আগে যায়, কেউ পওে, কেউ যেতেও পারেনা,
কেউবা যেতেই চায়না, নিজস্ব ছায়ার সীমানা পেরিয়ে
নক্ষত্র পুঞ্ছে উল্কা পাতের মতন আকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

এসো ভাঙি আধিপত্যের ফ্রেমগুলোকে চুরমারকরি,ধ্বংসকরি, আধিপত্যের স্থাপত্য।



সম্পাদকঃ সৈয়দ তৌফিক উল্লাহ
প্রচ্ছদঃ চারু পিন্টু



আমাদের মানুষগুলো হঠাৎ করে বদলে যাচ্ছে,
বোধগত কোন কিছুই, সমাজ-সংসার, পরিবার এর উপর
ব্যক্তিগত কোন প্রভাব আদৌ কি ফেলছে
শুধু দেখছি বড়বড় শিয়ালের বড় বড় লেজ
.
সমুদ্রে ঝড় ওঠে সমুদ্রের উপরিভাগে, ঝড় সমুদ্রের তলদেশে পৌছায় না। যিনি চিরন্তন সত্য উপলব্ধি করেন তিনি প্রতিটি সময়ের রুপান্তর যাচাই করে দেখেন। অবিচল থাকেন সময়ের সার সত্য অনুসন্ধানের। ধ্রুব সত্য অনুসন্ধানের পথে নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দি হয়ে ওঠেন। আর যিনি ব্যার্থ হন তিনি গা ভাসিয়ে দেন অন্ত:সারশূন্য বায়বীয় মরিচীকায়। কারন তিনি নিজেই দ্বীধাগ্রস্থ তাই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেন না। ইতিহাসের পাতায় হাজার হাজার এই রকমের জড় পদার্থের গুন সম্পন্ন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়। আর এরাই খুব সহজে তথাকথিত বুঁর্জোয়া, সাম্রাজ্যবাদীরা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানরা ফরমায়েশী সাহিত্যেক হয়ে ওঠেন সামান্য অর্থ, প্রচার,যশ,প্লাষ্টিকের পদক এর বিনিময়ে লেখক নামক এই মেধাহীন জড় পদার্থের গুন সম্পন্ন মানুষগুলোকে খুঁজে নেয়। আর সেই সুযোগে মুনাফা লোভী পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু ফরমায়েশী সাহিত্যেকগণ নিজের অজান্তে বিক্রি হওয়া ধান্দাবাজদের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রগতিশীল, প্রতিক্রিয়াশীল তকমা দিয়ে পুঁষে রাখে। অথচ তাদের সাহিত্যের প্রতি নিজেদের কোন সুানির্দ্দিষ্ট কমিটমেন্ট নেই, নেই কোন দায়বদ্ধতা না পাঠকের প্রতি,না সমাজের প্রতি , না বাংলা সাহিত্যের প্রতি। তবে এদের আছে লোক দেখানো দেশপ্রেম, টকশোতে, সভা, সেমিনারে মুখস্ত বিদ্যার গরম বক্তৃতা দেবার প্রশিক্ষিত দক্ষতা

প্রাচীন প্রবাদে আছে, “মরা কুত্তাকে কেউ লাথি মারে না

ঠিক এইভাবে মুনাফা লোভী পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু ফরমায়েশী সাহিত্যেকগণ কে ওরাই প্রায় মরা কুকুরের মত লালায়িত করে হাড্ডি ছুড়ে দেয় আর এরা লেজ নাড়িয়ে জিহ্বায় লালা ঝরিয়ে সেই হাড্ডি ফেরত নিয়ে আসে নির্লজ্জের মত পাশাপাশি বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এই পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু ফরমায়েশী সাহিত্যিকগণ কে বনসাঁই করে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা করছে, পণ্য সাহিত্যের উৎপাদন সংখ্যা বৃদ্ধি, লেখকের সৃজনশীল চৈতন্যের বিকাশ সহ ব্যক্তি লেখক সত্তা মত প্রকাশের স্বাধীনতা কে শেকল পরিয়ে দিয়ে বলছে,

ওটা শেকল নয় নুপুর, তোমরা কুকুর নও ময়ূর

প্রতিষ্ঠান বিরোধী তথা লিটিলম্যাগ মুভমেন্ট তথাকথিত বুঁর্জোয়া, মুনাফা লোভী, পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু ফরমায়েশী সাহিত্যিকগণদের তৈরি সকল বাজারি প্রডাক্ট বা পণ্য সহ সকল লেখক, সম্পাদক এবং প্রকাশকদের দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখান করে, অস্বীকার করে। আপনারা আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে গিয়ে বমি করছেন আর নিজেদের সেই বমি নিজেরাই চাটছেন। এবার সময় হয়েছে চাটাচাটির দিন শেষ। নব্বই পরবর্তী প্রজন্ম ঘুমিয়ে নেই। ওরা সদা জাগ্রত, সময়ই সময়ের প্রয়োজনে হুংকার দিয়ে উঠবে

সৎ নিষ্ঠাবান শিল্পী তাঁর শিল্পচর্চার মাধ্যমে মধ্যবিত্ত সংকীর্ণতা আড়ষ্টতাকে ঝেড়ে ফেলার সাধনা করে যান"-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (সংস্কৃতির ভাঙা সেতু )
গৃহপালিত আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুরতোলা এই বাজারি লেখকরা বুঝতেই চাননা নাকি বুঝতেই পারে না অনুভবের শক্তিহীন উপলব্ধিহীন হাড্ডি প্রাপ্তিতে সন্তুষ্টরা সর্বদা নিজেদের কথাই ভাবেন।তাদের সৃষ্টকাজ কোন কমিটমেন্ট নেই আছে পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু ফরমায়েশীপনা।তাদের কে পাঠককূল গ্রহন করতে কতখানি আগ্রহী সেটা তাদের বোধগম্য নয়।নিজেরাই নিজেদের কল্পনার ফাঁনুসে গাভাসিয়ে রেখেছে।এ সত্তেও এই অনা-সৃষ্টিকারক দল সারা জীবন নিজেদের ফরমায়েশী বিক্রির চেষ্টারত।অথচ পাঠকূল কি চায় সেই দৃষ্টিকোণদিয়ে না দেখে নজেদের চকচকে মোড়কের আড়ালে রেখে নিজেদের উপস্থাপন করছে।নিজেদের উলঙ্গ করে ঢাক পেটাচ্ছে।বুঁর্জোয়া, মুনাফা লোভী, পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু ফরমায়েশী সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক বাজারি দৈনকের সাময়িকী, মিডিম্যাগ মুখোশধারী লিটিলম্যাগ সংখ্যার পর সংখ্যা করে তাদের বাহবা দিয়ে প্রতিষ্ঠান নির্ভর দালাল চক্র তাদের সাহিত্যকর্ম প্রচার করে তাদেরকে অমরত্ব নামক গন্ধব ফলের লোভ দেখিয়ে যাচ্ছে। মিডয়িা ওয়াকার বানিয়ে তাদের প্রচার-প্রসার করে বলছে পাঠকগণের নিকট তোমরা প্রশংসিত

এইসব ধান্দাবাজ সাহিত্যিক নামধারী ব্যক্তিদের দারা বাংলা সাহিত্যের আদৌ কি মৌলিক লাভ হয়েছে?

শিল্প, ভাষা সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ধর্ম-মানব সংস্কৃতির অধ্যায়নে গভীরভাবে এবং আবেগপূর্ণভাবে জড়িত হওয়ার জন্য, তাদের প্রতিরোধ এবং গ্রহণের আহ্বান প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধী তথা লিটিলম্যাগ মুভমেন্ট যদিও কয়েকজনই সর্বজনীনভাবে বলবেন, মানবতার জন্য সমসাময়িক উচ্চতর পাঠক্রমের একটি বৃহত্তর ভূমিকা প্রদানের বিরোধিতা করে বিতর্কের মধ্যে রয়েছে এমন কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন। যখন তারা বিরোধিতা করে, তখন তারা প্রায়ই প্রতিক্রিয়াশীল অনুভূতিশীল মানবিক হয়: ধারণা যে, মানবিকতাগুলি বিষয়ে সমাজের অনুভূতির একটি গ্রুপ হিসাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধী তথা লিটিলম্যাগ মুভমেন্ট বিবেচনার চেয়ে, যে মানবিক সহজ, একটি নরম বিকল্প; যে মানবিক চিন্তাবীদদের প্রশিক্ষণের জন্য না স্বাধীনতার জন্য। তারা একটা কাজ স্বার্থক ভাবে গুছিয়ে করেছে, সেটা হলো ব্যক্তিগত অর্থযোগ, পুরুস্কার এর জন্য রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দলবাজি, দশকবাজির ঢং। এই মেধাবিক্রিত প্রাতিষ্ঠানিক তৃতীয় বিশে^ গণতন্ত্রের মোড়কের দ্বারা বুঁর্জোয়া, মুনাফা লোভী, পুঁজিবাদের সাহিত্যের সামাজীকরণ প্রক্রিয়ায় দশকীয় সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে মাতামাতি করছে। আর মনেপ্রাণে ভাবছে এসকল প্রতিষ্ঠান এর কারনে তাদের সাহিত্যকর্ম স্বীকৃত হচ্ছে। আদৌ কি তাই ঘটছে?

প্রকৃত পাঠকগণ কি চায় সে ব্যাপারে তারা সর্বদা উদাসীন। এমন সাহিত্যচর্চা করে কি লাভ?

কবি মলয় রায় চৌধুরী বলেন এস্টাবলিশমেন্ট শব্দটির বাংলা ''প্রতিষ্ঠান'' কেন যে করা হয়েছে কে জানে? এস্টাবলিশমেন্ট বলতে কোন প্রতিষ্ঠান বোঝায় না, অরগানাইজেশন বোঝায়। এস্টাবলিশমেন্ট একটি অ্যাবস্ট্যাক্ট ব্যাপার। প্রতিষ্ঠান শব্দটি দ্বারা ঠিক কোলাসা হয় না। এস্টাবলিশমেন্ট এর টোটাল পাওয়ার স্ট্রাকচার এর বিরোধীতা করলেই বিপদ ঘনিয়ে আসবে। জেলে পুরে রাখবে, নাই করে দেবে। প্রতিষ্টান বিরোধীতা করলে আর কী করবে? কিছুক্ষণ চেচামেচি করবে। এস্টাবলিশমেন্ট হচ্ছে সিস্টেমেটিক পাওয়ার স্ট্রাকচার, একটা সমাজের। এসটাবলিশমেন্ট বলে একটা অ্যাক্ট আছে যা দোকান খোলার জন্য প্রয়োজন হয়। ঐটা ট্রান্সলেট করার সময় প্রতিষ্ঠান আইন করা হয়েছিল, তা থেকেই শব্দটি এসে গেছে। সে যাই হোক, আমি অনেকের সঙ্গেই আলাপ করেছি শব্দটি নিয়ে। কেউ বলেছেন, ব্যবস্থা, ক্ষমতাকেন্দ্রিক, আসলে স্পেসিফিক শব্দ তৈরি হয়নি এখনও

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় বলতেন- পশ্চিম বাংলায় চারটি পাওয়ার স্টেশন আছে। চারটি মিলিয়ে হলো এস্টাবলিশমেন্ট। এক. পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দুই. আনন্দবাজার। তিন. রামকৃষ্ণমিশন। চার. ব্রাহ্মণ সমাজের ঘাটি শান্তিনিকেতন- বিশ্ব ভারতী। এই মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্টাবলিশমেন্ট


.
আমাদের সমাজে বাড়তি মুল্য যতবেশী হয়, পুঁজিপতিদের মুনাফাও হয় ততবেশী। এই মুনাফালোভীরা সাহিত্যকে পুঁজি বিনিয়োগ এর মাধ্যম বানিয়ে তথাকথিত বুঁর্জোয়া, সাম্রাজ্যবাদীরা নানান মোড়কে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে সুভিধাবাদী বাজারি, অর্থলোভী, প্রচারমুখি, স্বঘেষিত আঁতেল শ্রেনীকে নিয়ে ফরমায়েশী ব্যক্তিদের দিয়ে সাহিত্যেকে বাজারি প্রসাধনী পণ্য বা প্রডাক্ট সৃষ্টি করেছে। বাংলা সাহিত্যের মৌলিক চেতনাকে বাদ দিয়ে লেখক সত্তার স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে সাহিত্যে লেখক নামক কেরানী তৈরি করে চলেছে নিরšতর। না আছে এই সব লেখকদের প্রকৃত সাহিত্য সৃষ্টির প্রতি কোন কমিটমেন্ট, না আছে কোন পাঠককূলের নিকট কোন দায়বদ্ধতা। এই সব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ফরমায়েশী লেখকদের লোভী কালোহাতে কলুষিত হচ্ছে দেশের সাহিত্য। এজন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে ফরমায়েশী লেখকদের সৃষ্ট বাজারি পণ্যের কবল থেকে প্রকৃত সাহিত্য সৃষ্টির রক্ষাকরা

যিনি প্রকৃত সহিত্য অনুরাগী মৌলিক সহিত্যচর্চার প্রতি দায়বদ্ধ, তিনি বা তারা স্বাধীন সত্তা নিয়ে আপোষহীন ,তাই তাঁরা নিজস্ব মৌলিক চীন্তা করতে পারেন আর সৃজন করেন তাদের সকল সৃষ্টিকর্ম।প্রচলিত এই সব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ফরমায়েশী বাজারিদের বিরুদ্ধে দ্রোহ করেন, বিরোধীতা করেন , প্রথাভেঙে লড়াই করে চলেছেন এই বাজারি সাহিত্য নামক অপসাহিত্যেরলিটিল ম্যাগাজিনগুলোর জন্ম কোনো একটা আদর্শগত প্রতিজ্ঞা নিয়ে, প্রতিবাদ, ভাঙচুর, বিদ্রোহ, আন্দোলন, মোট কথা সাহিত্যে একটা নতুন ভাবনা চিন্তা নিয়ে আসা একটা সর্বাঙ্গীন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্যে। এঁদের পাঠক নির্বাচিত এবং বয়স্ক আাগ্রাসন হতে বাংলা সাহিত্য, সাহিত্যিক এবং পাঠকদের বাঁচাতে।

বর্তমানে চীন্তায় মধ্যবিত্ততাকে পুঁজি করে প্রতিষ্ঠিত কিছু প্রতিষ্ঠান সাহিত্যের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের জন্য এক শ্রেনীর ফরমায়েসী সাহিত্যি অর্থলিস্পু খ্যতিকাতর সাহিত্যিকদের সচেতনভাবে তৈরি করেছেন। বাজারি পাটাতনে কলাকৈবল্যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উৎপাদকের ভূমিকায় রেখে ফরমায়েসী অর্থলিস্পু খ্যাতিকাতর সাহিত্যিকদের চীন্তার মধ্যবিত্ততাকে বানিয়েছে উপকরণ, তাদের ফরমায়েসী সৃষ্টকর্মই হচ্ছে উৎপাদিত প্রডাক্ট বা পণ্য। এই প্রডাক্ট বা পণ্যকে পাঠক গ্রহন করুক আর নাই করুক সেটা তাদের মাথাব্যথা নয়, বরং নানান ষ্টাইলে রঙঢঙে ঢাক পিটিয়ে মিডিয়ায় প্রচার করে পাঠকে জোর করে এই প্রডাক্ট বা পণ্যকে গেলানোর নতুন নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ করছে বিভ্রান্ত পাঠক কেউ গিলছে না কিন্তুু বেশীরভাগ পাঠক মৌলিক সাহিত্যিক্ষুধা মেটাতে না পেরে বিমূখ হচ্ছে। তবে এত বাজারি পাটাতনে কলাকৈবল্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদিত প্রডাক্ট বা পণ্য কে সাহিত্যিকদের চীন্তার মধ্যবিত্ততাকে বজর্ন করে সাহিত্যের সিরিয়াস পাঠকগণ ঠিকই খুঁজে নিচ্ছে ১৯৬৫ সনে হাংরি বিলুপ্ত হবারপর লিটিলম্যাগ মুভমেন্ট এর প্রথাবিরোধী কাগজগুলোর সাহিত্যকে। যদিও লিটিলম্যাগ মুভমেন্ট এর প্রথাবিরোধী কাগজগুলোর কোন প্রচার নেই তারপরও, কারন এই সময় সভ্যতার ঘাগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দিনের আলোর মতো খোলাখুলি করে দিচ্ছেততোদিন বরং দু-আনা, চার-আনার এঁটোকাটা স্ক্রিবলারের দল আর তাদের ততোধিক এঁটো দালালসমূহ খেলাধুলো করুক, ঘৃণা এবং যুদ্ধ প্ররোচিত করার জন্য শান্তি প্রেমকে প্রচার করে
"ছোটোগল্পের জন্যে ভরসা করতে হয় লিটল ম্যাগাজিনের ওপর প্রচলিত রীতির বাইরে লেখেন বলেই লিটল ম্যাগাজিনের লেখকদের দরকার হয় নিজেদের পত্রিকা বের করার বাংলাদেশে এবং পশ্চিম বাংলায় ছোটোগল্পে নতুন তরঙ্গ অনুভব করা যায় প্রধানত লিটল ম্যাগাজিনেই তাদের লেখায় ছোটোগল্পের ছিমছাম তনুখানি অনুপস্থিত, সাম্প্রতিক মানুষকে তুলে ধরার তাগিদে নিটোল ছেড়ে তারা তৈরি করছেন নানা সংকটের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত ছোটোগল্পের খরখরে নতুন শরীরএইসব লেখকদের অনেকেই অল্পদিনে ঝরে পড়বেন, সমালোচকদের প্রশংসা পাবার লোভ অনেকেই সামলাতে না পেরে চলতে শুরু করবেন ছোটোগল্পের সনাতন পথে "
-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

এই উপমহাদেশের দুজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক- সাদাত হাসান মান্টো আখতারুজ্জামান ইলিয়াস; যারা ভাষার ভেতর অন্তর্ঘাত চালিয়ে তেঢ্যামনা হাড় হারামি মধ্যবিত্তের পোঙায় আছোলা বাঁশ ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

শিল্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কবিতা সৃষ্টির প্রথম শর্ত শখ করে, ভেবে-ভেবে, ছন্দে গদ্য লেখা হয়তা সম্ভব, কিন্তু কবিতা রচনা তেমন করে কোনো দিনই সম্ভব নয় অর্থব্যঞ্জনাঘন হোক অথবা ধ্বনিপারম্পর্ষে শ্রুতিমধুর, বিক্ষুব্ধ প্রবল চঞ্চল অন্তরাত্মার বহিরাত্মার ক্ষুধার্ত

সমাজের প্রশ্ন থাকলে দায়ের বোধও থাকবে। কোথায়? যেখানে দায়বোধটা প্রত্যেকের মধ্যে একইরকমভাবে ক্রিয়া করবে, সেখানেই তো; কোন সে সমাজ? যেখানে মানুষ যে কিনা কোনো কাজের জন্যে কেবল এককভাবেই দায়ী। অন্তত এই সমাজে না। তার সম্পন্ন-সত্তার একক কীই-বা? -এই যে প্রাইভেসি আর পারসোনাল নিয়ে কতো বিতর্ক; মানুষের সৃজনকর্মেও সময়টুকু ছাড়া আর বর্জ্য-পরিহারের সময়টুকু ছাড়া, তার প্রাইভেসির কতটুকুই-বা প্রয়োজন?’
- সাপলুডু খেলা : সেলিম মোরশেদ [উপন্যাস]



.
এরপর বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে কল্লোল যুগ এর সাহিত্যিকগণ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো তৎকলীন ভারত ঔপনিবেশিক আন্দলোনে আপামর সাধারন মানুষের নিকট বৃটিশদের ভারতবর্ষ হতে তাড়াতে তাঁদের সাহিত্য লড়াইয়ের অস্ত্রের মত শাণিত হয়ে উঠেছিলো। এরপর ধর্মের ভিত্তিতে ১৪ই আগষ্ট রাত বারোটায় অর্থাৎ ১৫ই আগষ্ট, ১৯৪৫ সনের প্রথম প্রহরে যা এই পৃথিবীতে বিরল দ্বীজাতি তত্ত্ব তথা ধর্মীয় মৌলবাদী প্রহসন জন্মের মাধ্যমে একটাই বাংলা বৃটিশ আইনজীবি রেড ক্লিফ সাহেব ছুরি চলিয়ে দ্বীখন্ডিত করলো আর আমরা বাঙালী হিসাবে নয় মুসলিম হিসাবে স্বাধীন পাকিস্থান এর অংশ হলাম। আমাদের নামকরণ করা হলে পূর্ববাংলা আর অপর আংশে হিন্দু হিসাবে স্বাধীন ভারত এর অংশ হলাম। আমাদের নামকরণ করা হলো পশ্চীম বাংলা। লাখো লাখো মানুষের দল আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা, শিশু অর্ধাহারে অনাহারে হেঁটে, গরুর গাড়ীতে চড়ে যশোর রোড দিয়ে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেলেন পশ্চীম বাংলায়। তারা বাঙাল পরিচয়ে নতুন করে জীবন শুরুর সংগ্রামে মেতে উঠলেন

কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক নবজাগরণের সূচনা করে।বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাতে এই আন্দোলনের ভূমিকাই মুখ্য বলে বিবেচিত।১৯২১ খ্রিস্টাব্দে গোকুলচন্দ্র নাগ, দীনেশরঞ্জন দাশ, সুনীতা দেবী এবং মনীন্দ্রলাল বসু প্রমুখ কলকাতার হাজরা রোডেচার শিল্পীর গোষ্ঠীনামে একটি আড্ডার সূচনা করেন, সাহিত্য, ললিত কলা, সংগীত নাটক সৃষ্টি চর্চার জন্য। প্রথমে চার সদস্য একটি ছোটগল্পের সংকলন বের করেন ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে , নাম ঝড়ের দোলা। দীনেশরঞ্জন দাশ এবং গোকুলচন্দ্র নাগ এরপর ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে একটি সাময়িক পত্র বের করেন, নাম দেন কল্লোল

কল্লোল পত্রিকাকে কেন্দ্র করে ১৯২৩ থেকে ১৯৩৫ খ্রীস্টাব্দ কাল পরিধিতে বাংলা সাহিত্যে প্রভাবশালী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। কল্লোল সাহিত্য পত্রের সময়কালকে কল্লোল যুগ হিসাবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। কল্লোল নব্য লেখকদের প্রধান মুখপাত্র ছিল যাঁদের অন্যতম ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম, বুদ্ধদেব বসু। অনান্য সামযয়িক পত্রিকা যেগুলো কল্লোল পত্রিকা কে অনুসরণ করে সেগুলো হলো উত্তরা (১৯২৫), প্রগতি (১৯২৬), কালিকলম (১৯২৬) এবং পূর্বাশা (১৯৩২)

তার সম্পাদক গোকুলচন্দ্রের মৃত্যুর পর কল্লোল শেষ হয়ে গেল। কল্লোল শেষ একটি জার্নাল শেষ না শুধুমাত্র একটি যুগের শেষ ইঙ্গিত। সাত বছর কলেরোল যুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করা হয়েছে - বাঙালি আধুনিকতাবাদ দ্বারা চিহ্নিত একটি অধ্যায় দিয়ে

দেশভাগের সময়কার অবস্থায় কল্লোল যুগের পর বাংলা সাহিত্যে সময়ের তাগিদে সৃষ্ট আন্দোলনের কথা সাবঅল্টার্ন স্টাডিজের ভাষায় বর্ননা করা যায়, “কেন্দ্রিক ন্যাকাচিত্তির সাহিত্যের এঁদো কপচাবাজি এবং তার সেক্টর প্রতিষ্ঠানের মুখে জোর থাপ্পড় মেরে তার গিল্টি-করা দাঁত উখড়ে তার ভেতরকার মালকড়ি ফাঁস করে দিতে আজ থেকে তিপ্পান্ন বছর আগে দানা বেঁধেছিল যে বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রচলিত সংস্কৃতির কাউন্টার ডিসকোর্স পরিবর্তনের আন্দোলন - হাংরি জেনারেশন

হাংরি জেনারেশন আন্দোলন বাংলা ভাষায় একটি তৎকালীন ভারতীয় সাহিত্য আন্দোলন ছিল যা মূলত কবিতার ওপর আলোকপাত করে এবং বিখ্যাত বঙ্গীয় চার্চ দ্বারা পরিচালিত তরুণ বাংলা কবিদের একটি গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত হয়, যেমন মালয় রায় চৌধুরী, সামির রায় চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, এবং দেবী রায় (হারধন ধারা) এটি কলকাতা, ভারততে ১৯৬০-এর দশকের প্রথম দিকে চালু হয়েছিল। এই আন্দোলনটি ভারতে বাংলা সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিকড় কেটে দিয়েছে। সমসাময়িক ভারতীয় সাহিত্যে ব্যবহৃত ভাষা এবং শব্দভান্ডার চ্যালেঞ্জ এবং উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়

এই আন্দোলন প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং কখনও কখনও existentialism এর tenets অভিব্যক্তি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে কলকাতায় অবস্থিত, যদিও এটি উত্তরবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং বেনারসে সক্রিয় সদস্য ছিল। মুলত এই আন্দোলনটি অ্যালেন গীন্সবার্গ্র সহ আমেরিকান কবিদের বীট জেনারেশন দ্বারা প্রভাবিত ছিল

ক্ষুধার প্রজন্ম আন্দোলন নামেও পরিচিত ঐঁহমৎুধষরংস মূলধারার সাহিত্য শৈলীর চ্যালেঞ্জ গ্রুপটি শৈলী, ফর্ম এবং বিষয়বস্তুতে একটি প্রধানত ফবারধহঃ কবিতা এবং গদ্য রচনা করেছে। এটি হিন্দি, মারাঠি, অসমীয়া, তেলেগু উর্দু সাহিত্যেও প্রভাব বিস্তার করেছিল

আন্দোলনের প্রসার মুখপত্র প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা সম্পাদনা সুবিমল বসাক, দেবী রায় মলয় রায চৌধুরীর কিছু-কিছু কার্যকলাপের কারণে ১৯৬৩ সালের শেষার্ধে হাংরি আন্দোলন বাঙালির সংস্কৃতিতে প্রথম প্রতিষ্ঠানবিরোধী গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত হয়। সমাজের বৈষম্য দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয় যা দ্বন্দ সৃষ্টি করে, এর পরিবর্তে যা আদেশ ঐক্যমত্য তৈরি করে। বৈষম্যের উপর ভিত্তি করে এই দ্বন্দটি কেবল সমাজের বিদ্যমান সর্ম্পকেমৌলিক রূপান্তর, এবং নতুন সামাজিক সর্ম্পকের ফলদাক হয়ে উঠতে পারে। হাংরি আন্দোলনকারীদের মনে হযয়েছিল দেশভাগের ফলে পরে পশ্চিমবঙ্গ এই ভযয়ংকর অবসানের মুখে পডয়েছে, এবং উনিশ শতকের মণীষীদের পর্যাযয়ের বাঙালির আবির্ভাব আর সম্ভব নয়। সেকারণে হাংরি আন্দোলনকে তাঁরা বললেন কাউন্টার কালচারাল আন্দোলন, এবং নিজেদের সাহিত্যকৃতিকে কাউন্টার ডিসকোর্স সৃষ্টি করতে পেরেছিল।



বাংলা সাহিত্যের নামে বর্তমান সময়ে যা হচ্ছে পশ্চীমবঙ্গের মতই বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির ছত্রছায়ায় তা নোংরামীর একরকম চুড়ান্ত পর্যায় পৌছেছে। বাজারি পণ্য সাহিত্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, লেখকদের সৃজনশীলতা, চৈতন্যের বিকাশ, নতুন কিছুর পরীক্ষা-নীরক্ষিা প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করছে। লেখক সত্তার নিজস্ব চীন্তাচেতনার অনুভুতিকে প্রতিবন্ধি করে রেখেছে।

হাংরি আন্দোলন বিলুপ্ত হবার পর এক ধরনের সাহিত্যচর্চায় শুন্যতা পাশাপাশি বাজারি সাহিত্যের প্রভোক আপদকালীণ সময়ে বাংলা সাহিত্যে কবিতা নিয়ে নীরিক্ষার অন্যতম উদাহরন কবি বিনয় মজুমদার অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে কবিতায় তুলে ধরেছেন তার যাপনের নানা অভিজ্ঞতা, আশা-ব্যর্থতা, অনুরাগ, অপ্রাপ্তির বিভিন্ন অনুষঙ্গ- যা জীবনানন্দের মৌনতাকে সমর্থন করলেও বিনয়কে চিনতে বেগ পেতে হয় না। প্রকৃত প্রস্তাবে, বিনয়ের কবিতাগুলো যেন স্বগতোক্তি কিংবা আত্মকথন, যা শান্তরস সিক্ত, তীব্র ব্যঞ্জনাধর্মী গভীর অর্থবোধক। বৈশিষ্ট্যের কবিতাকে কাব্যবোদ্ধারা আত্মমুখিনতা বা ইন্ট্রোভার্ট কবিতা বলে আখ্যায়িত করেন

সেই আপদকালীন সংকটময় সময়ে কবি বিনয় মজুমদার কাব্যিক শুন্যতার মুহূর্তে কবিতার প্রচলিত ফর্ম ভোঙেন এবং আবিস্কার করেন নতুন কাব্যলৈী যাকে তিনি ইন্ট্রোভার্ট কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন
তারএকটি গানকবিতাটির পাঠ নেয়া যাক-
=
এবং =
বা = =
বা =
শূন্য থেকে প্রাণী সৃষ্টি হলো
এই ভাবে বিশ্ব সৃষ্টি শুর হয়েছিল।
একটি গানকবিতায় বিনয় মজুমদারসৃষ্টির উৎসঅন্বেষণের চেষ্টা করেছেন, কবির ভাষায় শূন্যবিন্দু থেকে। মূলত সৃষ্টির আধার খুঁজতেই কবি গাণিতিক এই ফর্মটির প্রয়োগ ঘটিয়েছে। বাংলা কবিতা রচনার ক্ষেত্রেও বিনয়ের আগে কোনো কবি প্রয়োগ করেছেন বলে জানা যায় না।

আবারসৃষ্টির উপায়কবিতায় তিনি বলেন,“অপরদিকে, ঘৃণা এবং যুদ্ধ প্ররোচিত করার জন্য শান্তি প্রেমকে প্রচার করে,”


প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, “সাধারনত প্রতিবাদ মুখর, আনুষ্ঠানিকতা-বর্জিত, প্রাতিস্বিকতায় ভঙ্গুর, অস্থির, আস্বস্তিকারক, ছকহিন, ঐক্যহীন, খাপছাড়া, এলোপাতাড়ি আয়রনিমূলক।কিন্তু বিগত চার-পাঁচ দশকের বাংলা কবিতার ইতিহাস প্রমাণ করেছে, মধ্যমেধা আর নিম্নমেধার ছড়াকার-গীতিকার নয়, বাংলা কবিতাটা আসলে শাসন করে এসেছেন আলোর বৃত্তের বাইরে থাকা বাঘ-সিংহেরাই। এরা আজ সসম্মানে পুনর্বাসিত হচ্ছেন এবং আরও হবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের হিম্মত হবে না এদের মুছে দেবার! ততোদিন বরং দু-আনা, চার-আনার এঁটোকাটা স্ক্রিবলারের দল আর তাদের ততোধিক এঁটো দালালসমূহ খেলাধুলো করুক
একজন যিনি কবি হয়ে উঠতে চান, তার আত্মবিমোচন পদ্ধতি শুরু হতেই যদি বুঝে যান যে তিনি ক্ষমতার বিপক্ষের লোক নন, তিনি ক্ষমতার পক্ষের লোক; তিনি যে ভাষা পেতে চান সেটি ক্ষমতাকে বিরূপ করে তুলবে -- তখন শুরু হয় তার ত্রাসের কাল ভাষা বিমোচন তো দূরের কথা, এই সংঘর্ষের ক্ষেত্রটি থেকে পলায়নই তার বাঁচার পথ হয় এমন রচনাকার আমরা দেখেছি যিনি ক্ষমতার ভাষাকে আঘাত করার আপাত একটা মানসিকতা দেখাচ্ছেন কিন্তু অনতিকালেই তিনি ওই পথ ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি ঢুকে পড়েন ক্ষমতাসেবীর দলে " -শৈলেশ্বর ঘোষ (ভাষা বিমোচন)

দুরূহ দুর্গম তার যাত্রা, যা কিনা সলোমানের; মূলত অনুসন্ধিৎসু মানসে এক বিন্দু থেকে নব নবতর বিন্দুর দিকে অভিগমন। সকল ঘটনাসংঘঠন সে প্রত্যক্ষ করে নির্বিকার অথচ সূক্ষ্মতর বিশেষে এবং সংলক্ষ্য এও যে সম্পৃক্ত হয় না সে কোনো ঘটনা বিন্দুতেই।ধর্মবোধ-আধ্যাত্মিকতা,সংখ্যাতত্ত্ব আর রাজনৈতিক চেতনা ব্যাংগমা-ব্যাংগমীতে দ্বন্দমুখর একটি চেতনা,সলোমানের,ততসহ আর সব ক্যাটালিস্ট চরিত্রগুলিও। এই যে সলোমান,তার যাত্রা কি কেবলই সম্মুখবর্তী? নিঃসংশয় কি সে? ক্বচিত পিছন মুখে তাকিয়ে কি সে ক্ষণকাল ভাবিত হয়?এমতো যে,আমার ভালোভাবে-বেঁচে-থাকা জীবনে যা আমি অন্তরংগে দেখলাম,এই পর্যবেক্ষণ,তা সততার সংগে ব্যক্ত করলাম,ব্যাস, এপর্যন্তই।পাঠক,সলোমান বা তার মতো,এই নভেলেটে,' সাপলুডু খেলা' কোনো স্থির গন্তব্য নেই।এই কথাবস্তুতে সলোমান কেবল ভীত,সৌন্দর্যময় সাপ আর ঘরলুডু' ভবিতব্যে জড়িয়ে পড়াও একটি চরিত্র।পাঠক, তুমিও তাকে দেখ, যদিও দেখার কোনো দায় নেই। ৮০' দশকের সবচেয়ে দায়বদ্ধ লেখক সেলিম মোরশেদ 'কাটা সাপের মুন্ডুু' পর তার এই নভেলেটে বিগত দিনের গল্পধারার বাইরে এই প্রথম কথ্যভাষার সারল্যে পরস্পরবিরোধী এমন একটি ব্যতিক্রম, আন্তর্জাতিকতাময় আর স্পর্শকাতর বিষয়কে তার কথাবস্তুর উপজীব্য করলেন।- সাপলুডু খলো : সেলমি মোরশদে [উপন্যাস]

লিটিলম্যাগ কেন্দ্রিক বহুবিধ ধারণাপোষণ করে এসকল ছোটকাগজের সঙ্গে যারা জড়িত তারা কি শুধু সম্পাদকের দযিত্ব পালন করছেন না সংগ্রাহকের? কতোটা মৌলবাদ বিবর্জিত? আদৌ কি লিটলম্যাগ হয়ে উঠছে নাকি নানা রকমের লেখকদের মহাসমাবেশ ঘটিয়ে বিশ্ব এজতেমা সংকলিত করছেন? পেটমোটা সংকলন করে ভলিউমের বাইসেপ, ট্রাইসপ দেখিয়েছে, দেখিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তরর? জিজ্ঞাসা আরো গভীরে প্রোথিত হলে তৃতীয় বাংলার লিটলম্যাগ উভয়বঙ্গে তথা বাংলাভাষাভাষী সর্বঅঞ্চলে চিহ্ন তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি


হে সৃষ্টিশীলতা, নিজেকে নিজে আক্রমণ করার জন্য তৈরি থেকো”- সুবিমল মিশ্র

আশির দশকে বাংলাদেশে কথাসাহিত্যিক সেলিম মোরশেদ তাঁর সহযোগী সমমনা সাহিত্যিকগণ আমাদের দেশে লিটিলম্যাগ মুভমেন্ট এর প্রথারবিরোধীতা তথা প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার চর্চা প্রয়োগ ঘটান। কথাসাহিত্যিক সেলিম মোরশেদ প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার নায্যতা, এর অনিবার্যতার বিশদ ভাবে তুলে ধরেন তাঁর রচিত পাল্টা কথার সূত্রমূখ বিষয়ক ইশতেহার গদ্যে। কথাসাহিত্যিক সেলিম মোরশেদ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা কোন খন্ডিত বিষয় নয় বরং তা হচ্ছে প্রচলিত মূল্যবোধ, ব্যবস্থা প্রক্রিয়ায় অবস্থিত নান্দনিক ধারণার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন আক্রমণ। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার অর্থই আমার শিল্প বিশ^াসকে এমন পর্যায়ে নিতে হবে যেক্ষেত্রে পণ্য সর্বস্ব পত্রিকাগুলি লেখকের জীবনের কোন পর্যায়ে তাঁর লেখা ছাপার জন্য, তারা (প্রতিষ্ঠান) শেষ সাহষটুকু নিয়েও এগোতে পারবে না।তিনি আরো বলেন, “'অদৃশ্য সূত্রে কিছু লেখকের মননের একটা ঐক্য হয়। ইংরেজি থেকে ধার করে বলতে হয় -- অল্টার ইগো বা বিকল্প অহম; অপরিচিত বহু লোকের কাছে অনেক সময় শোনা যায়, আশ্চর্য, আপনার চেহারাটা আমার পরিচিত একজনের মতো? কোথায় যেন দেখেছি? এইসব দেখাগুলো, মেলামেশাগুলো- পরস্পরের দেয়া-নেয়া। একটা সামষ্টিক আকাঙ্খা - অজানা যূথবদ্ধতা মানুষের ভেতর কাজ করে। তখন মানুষের কীর্তি একক না। সে ঐটুকু ভাগ্যবান, তার ভিতর দিয় কর্মটি প্রকাশিত হয়েছে




কবি কামরুল হুদা পথিক, সম্পাদক দ্রষ্টব্য, তিনি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা বিষয়ে বলেন, “ জোঁক যতই ছোট হোক রক্ত চোষাই তার স্বভাব। সে ক্ষেত্রে পশ্চীম বঙ্গের আনন্দ হোক আর বাংলাদেশের ভোরের কাগজের মদ্ধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না।তিনি আরো বলেন, “কোন কিছুই অনিবার্য নয়, আবার অনিবার্যতার বর্মে আচ্ছাদিত রেখেই এক মজবুত পাটাতনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে তোলে এবং রেিখ একদল লেখক-পাঠক। যেনো নিজের সাথে নিজের এক সাংঘর্ষিক প্রক্রিয়া।তিনি চীন্তায় মধ্যবিত্ততাকে পুঁজি করে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন,
আপনি ইচ্ছে করলে /
জীবদ্দশায় অপ্রাতিষ্ঠানিক থাকতে পারবেন /
কিন্তু প্রতিষ্ঠান নামের /
বুঁনো শুয়োর/
আপনাকে ছাড়বেনা কারন /
তার ঘি বলেন আর গু বলেন /
কোনটাতেইআরুচি না নেই

তিনি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা বিষয়ে দ্রষ্টব্য ১৩ তম সংখ্যায় বলেন,“ পুঁজির আছে সকল কিছু গ্রাসাচ্ছাদি অগ্নিমুখ-লোভাতুর জিহ্বা-ডাইনোসরের উদগ্র স্বেচ্ছাচারী ক্ষুধা নিবৃত্তির কামুক প্রবৃত্তি। আর অসম্ভব অপশক্তির ধারক এই পুঁজিই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের মুখ। পুঁজি গিলে খেতে চায় সমাজ-সাহিত্য-সভ্যতা। কষ্টে-শিষ্টে হজম করতে চায় সবকিছু। আর পয়ঃনিষ্কাশনের মতো এক সময় উদগীরণ করে ফেলে দেয় আমিষটুকু চুষে নিয়ে। পুঁজির হাঁ-মুখ থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে চলে ছোট কাগজের প্রজ্ঞাশীল লেখকরা। কখনও কখনও তীব্র ঘৃণা কিংবা তীব্র বিরোধিতাকেও বেগবান করে তুলে সকল লেখকরা। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কাগজের পিঠ চাপড়ানি মার্কা কর্মপ্রণালীর পাশে রাজনীতির মাঠে বি-টিমের মতোই বাজারি-বারোয়ারি-বাণিজ্যিক কাগজগুলোর ধ্বজামার্কা সাহিত্যের পাতাটির বি-টিম হিসেবে সাহিত্যের মাঠে অবস্থান করে বড় কাগজের সেবাদাস কিছু ভেকদারী ছোট কাগজ। বড় কাগজের কনটেন্ট জাস্ট ছোট পাতায় প্রিন্ট করে দেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ থাকে না। নিরীক্ষাতো নেই-ই। ছোট কাগজের আগ্রহ যেখানে এক্সপেরিমেন্ট, বড় কাগজের আগ্রহ সেখানে নিরীক্ষাকে প্রত্যাখ্যান। তাই সব দেশে সবকালে সাহিত্যে সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য যে ঘটনাটি প্রবাহমান সেটি হচ্ছে সাহিত্যে কমার্শিয়াল বা বেনিয়াবৃত্তির পাশপাাশি প্রকৃত মৌলিক সাহিত্যনির্ভর অবিচ্ছিন্ন এক লিটল ম্যাগাজিনের বহমান স্রোত।

কারো পরোয়ানা করে নিজের ভাবনা-চিন্তা নিজের মতো লেখা, এটাই লিটল ম্যাগাজিনের মূলধর্মলিটল ম্যাগাজিনস সাহিত্যের ধমনী, লিটল ম্যাগাজিন অর্থো আন্দোলন। যদি তার মস্তিষ্কে সুদূরপ্রসারী কল্পনা না থাকে? তবে, কাঁচের ঘরে বনসাই, কী বাহারে লতা হয়ে কী লাভ? বরং পাহাড়ের চূড়ায় বৃক্ষ হওয়া অনেক শ্রেয়। অবশ্য ঘাতকের হাতের কুঠার বা ইলেকট্রিক করাত বুঝিয়ে দেয়, তার স্বল্পায়ু জীবন। একথা প্রায় সব লিটল ম্যাগাজিনের ভবিতব্য। বাংলা সাহিত্যের নামে বর্তমান সময়ে যা হচ্ছে পশ্চীমবঙ্গের মতই বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির ছত্রছায়ায় তা নোংরামীর একরকম চুড়ান্ত পর্যায় পৌছেছে।
 
আমার পশ্চীমবঙ্গের বন্ধু কবি সব্যসাচী সেন, সম্পাদক,কারুবাসনা এর নিকট পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠান বিরোধী আন্দোলন লিটিলম্যাগ বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অধিকাংশ লিটিলম্যাগ সতীপনায় ব্যাস্ত অধিকাংশই আনন্দবাজার গোষ্ঠির দেশ নামক পত্রিকার অন্ধ অনুকরণে রত। এখানে লিটিলম্যাগাজিনের কোনো আন্দোলনই নেই যে মানুষ পরাজিত হয়ে বেঁচে থাকতে চাইবে সে ঘরে বাইরে আক্রান্ত হবেই। এটাই তার নিয়তি

Google+ Badge

send or tell a frind

voice of the protestant


take a look!

Translate

Sayed Taufiq Ullah