পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৩

Feature

all participants

Creative Commons License
মেঘমূখী বাঙালীত্তের আদি আহ্বান : মানুষ ও প্রকৃতির World Village of Art

রাত যত বাড়ে যশোরের নৈসর্গিক রহস্যময়তা ততো বাড়তে থাকে, চোখ ধাধালো সুন্দর থেকে আরও সুন্দরতম হয়ে ওঠে। উপমহাদেশের প্রাচীনতম জেলা শহর যশোর এর আবাসস্থল। বাঙালী সংস্কৃতির অনেক প্রথা-চর্চার প্রায়োগিক জন্ম এই জনপদে।


ফরাসি কবির ভাষায় বলতে গেলে,
"আমাদের এ জীবনে যেহেতু এসেছি আমি এক আগুন্তুক শুধুই তোমার সঙ্গে কথা বলি অজানা ভাষায়
কেননা তুমিই বুঝি হতে পারো একমাত্র আমার স্বদেশ
আমার বসনত্দ, টুকরো খড়কুটোর বাস, বৃষ্টিপাত, বৃৰশাখে" -পিলিপ জ্যা'কোতে (ফরাসি কবি ও দার্শনিক)
এক আলাপচারীতায় জেনারেল শিশুকে উদ্দেশ্যে করে- প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান আৰেপ নিয়ে বলেছিলেন,"শিল্পী সাহিত্যিকদের কমিউন যশোরে চেষ্টা করেছিলাম, হয়নি! মনে হচ্ছে সোনারগাঁয়ে হবে। তাছাড়া জয়নুল কারম্নপলস্নী গড়ে তুলেছেন। ওখানেই কমিউন গড়ে তোলা সম্ভব"। (সুলতান-৭৫, লেখক-হাসনাত আব্দুল হাই। প্রথম প্রকাশ-১৯৯১)।

আমাদের অনুপ্রেরণার কারিগর স্বপ্নদ্রষ্টা এস এম সুলতান, জয়নুল আবেদিন, রশিদ চৌধুরীসহ সমমণা প্রখ্যাত গুণীশিল্পীদের চিরায়িত স্বপ্নের সেই আর্ট ভিলেজ। ছিয়ানব্বই গ্রাম ফাইন আর্ট মিউজিয়াম" এখন স্বপ্নদ্রষ্টা সেই প্রখ্যাত শিল্পীদের অনুসারী একদল তরম্নণ অথচ তাঁরা বাজারে শিল্পী নন। ২০০৭ এর দিকে এ প্রকল্প বাসত্দবায়ন বিষয়ে একদল সমমনা তরম্নণ প্রাণের চিত্রকর গোষ্ঠী বিনম্রচিত্তের ডাকে সাড়া দিয়ে নৈবেত্তিক চেতনাগত রূপের বাসত্দবায়ন করে দেখালেন অক্টোবর ০২ থেকে ০৬, ২০১১ পর্যনত্দ ৫দিন ব্যপি একটানা চলল প্রথম আর্ট ক্যাম্প উৎসব।

দুই.
"এখানে বনের কাছে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি
সারা রাত দখিণা বাতাসে
আকাশের চাঁদের আলোয়" - মন্ত্র নিয়ে প্রথম আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠানিকভাবে শুরম্ন হয় অক্টোবর ০২, ২০১১। স্থানীয় জনপদের সাধারণ মানুষ ও অংশগ্রহণকারী শিল্পীবৃন্দের স্বক্রিয় অংশগ্রহণে। উপস্থিত শিল্পানুরাগী আর শিশুদের সম্মিলীত র্যালি শেষে মোঃ মোসত্দাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক, যশোর সহ সকল অংশগ্রহণকারী শিল্পীবৃন্দ ও জনপদের স্থানীয় বাসিন্দা তথা সকলের সম্মিলীত হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে World Village of Artএর প্রথম স্থপনা " ছিয়ানব্বই গ্রাম ফাইন আর্ট (এনভায়রমেন্টাল) মিউজিয়াম" এর ভিত্তি প্রস্থের মোড়ক উন্মোচণের এরপর ৫৪ জন শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহনে চিত্রংকণ উৎসব এর মধ্যে দিয়ে শুরম্ন হয় উৎসবের প্রথম পাঠ।
জাতিসংঘের আমন্ত্রণে এক সমাবেশে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান শানত্দির উপর দেওয়া বক্তৃতায় বলেছিলেন, "আমার কাছে বোমা থাকলে সব অস্ত্র তৈরীর কারখানার ওপর ফেলে দিতাম। ছোট ছেলে-মেয়েদের চারম্নকলা শেখাবার স্কুল তৈরী করাতাম সেখানে"। (সুলতান- ১৯৫, লেখক হাসানত আব্দুল হাই, প্রথম প্রকাশ- ১৯৯১)।
আজ তিনি বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন নিশ্চয়!
ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত সহ প্রভৃতিদেশে রয়েছে শিল্পী-কবিদের প্রতিভা বিকাশের অফুরনত্দ সুযোগ। বাঙলাদেশের প্রেৰাপটে এটাই প্রথম কোন উদ্যোগ, যা আগে কখনোই হয়নি। ১০ কিলো মিটার এলাকা জুড়ে ছিয়ানব্বই গ্রামের ২০টি গ্রাম নিয়ে সুন্দলীর পথে পথে জুড়ে এক সময় থাকবে বড় বড় ভাস্কর্য, কবি-শিল্পীদের নিমগ্ন হয়ে কাজ করার জন্য তৈরী করা হবে অসংখ্য ছোট ছোট ডেরা, আর্ট গ্যালারী, লাইব্রেরী, লোকজ সংস্কৃতির হারানো বাঙালিপণার আদি ঢঙ, কবিতা পাঠের নিয়মিত আসর, বইমেলা, নৃত্যানুষ্ঠান আর প্রত্যেক বছর পুরো জানুয়ারী জুড়ে চলবে শিল্পিদের Art Festival, তাছাড়া সারা বছর জুড়ে চলমান থাকবে শিল্পী, কবি, শিল্পানুরাগী, পর্যটকদের নিত্য-নৈমিত্তিক যাতায়ত। সুন্দলীর প্রানত্দরজুড়ে সৃষ্টি হবে ছিয়ানব্বই গ্রাম ফাইন আর্ট অব (এনবভারমেন্টাল) মিউজিয়াম। চৈতণ্যের, চীত্তের সুরেলা সেইসত্দর অর্জনের সুতীব্র এক শেস্নাগান।
প্রকৃতি তার নিজস্ব উপস্থাপণায় পরিবেশে ছড়াবে আত্মিক তৃপ্তি আর অনুভবের ডগায় ডগায় ভরপুর শিল্প বিকাশের, অসত্দিত্ব চেতণার নৈবেক্তিক উৎস কেন্দ্র। এখানে নেই কোন সামনত্দপ্রথা, বুর্জোয়ানীতির প্রয়োগ। থাকবে না আনর্ত্দঃদ্বন্দের শেকল। শুধু থাকবে বিস্মিত হবার প্রয়াশ।
তিন.
স্বপ্ন দেখার লোকের অভাব খুব বেশি এদেশে। মানুষেরা বড্ড বেশী হিসেবী।
অ্যালেন গীন্স বার্গ এর ভাষায়;-
"অসংখ্য সমুদ্র বয়ে যাচ্ছে সময়ের স্রোত এবং কেউ বা বিখ্যাত হতে চায়
এবং অট্রোগ্রাফ সই করতে চায় সিনেমা স্টারদের মত...
... আমি জানতে চাই আমার মৃতু্যর পর কী হবে..."
" ছিয়ানব্বই গ্রাম ফাইন আর্ট (এনভায়রনমেন্ট) মিউজিয়াম" আনকোরা এক আলোর উৎস, সম্ভাবনাময় সেই উৎসবস্থল। যেখানে পাতার আঙুলের ভাজে ভাজে পাতায় চুমু, রোদের লুকোচুরি, পূর্নিমা রাতে পুঁড়ে যাবে রোদ্রগ্রাম; সব-সবই মিলে জীবনের প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ নান্দনিক সেই মেটাফোর যা আগে এদেশে হয়নি কখনও।
জীবনই দর্শন শেখায়। বই-পত্রে জীবনেরই অভিজ্ঞতা লেখা থাকে। একটাই যখন জীবন, নানানভাবে দেখতে হবে একে, আর তা না হলে বিশ্বজগতে এত কিছুর আয়োজন কেন?
বৃহত্তর যশেরের ছিয়ানব্বই গ্রাম শিল্প চেতনাগত সত্তার এক বিস্ময়কর প্রানত্দর এই কার্বনচাষীদের যুগেও!
মোদ্দাকথা World Village of Art তথাকথিত বাজারে প্রচলিত সামাজিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে শিল্পী- সাহিত্যিকদের পাশাপাশি সাধারন মানুষ এককাতারে দাড়িয়ে মনোগত অবস্থার আদান-প্রদান, ভাব বিনিময়, চিনত্দা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ, চেনা-জানার অনুপ্রাস হবে এর সহজাত স্বভাব। হয়তবা একদিন শানত্দিনিকেতনের মতো আমাদের সুন্দলী ধীরে ধীরে বেড়ে উঠবে কালের স্রোতে। সবেতো ভুমিষ্ট হলো, এরপর শৈশব, কৈশর, যুবক, অতঃপর ক্রমশ হয়ে উঠবে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর নৰত্রের মতন জ্বলজ্বলে।
আমাদের আজন্ম ঋণী করে রাখলেন সুন্দলীর স্থানীয় কিছু মানুষ, অনুপ চন্ডাল, স্বদেশ বিশ্বাস, কঙ্কর সরকার, বিধান মলিস্নক, কল্যান বিশ্বাস, যাঁরা জমি আর নিঃস্বার্থ শ্রম দিয়ে শিল্পযাত্রা কে বেগবান করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান হতে এই স্বপ্নযাত্রা সফল করতে স্ব-উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছেন ৫০ এর ও বেশি চিত্রশিল্পী;- তরুণ ঘোষ, এ এফ এম শিপু মনিরম্নজ্জামান, সমীর মজুমদার, জাহিদুল ইসলাম জীবন, তরিকত ইসলাম ঝন্টু, মোঃ সোহেল রানা, সান্ত্বনা শাহরীণ নিনি, মঈনউদ্দীন মনি, স্নিগ্ধ শেখর চিনত্দাপত্র, তন্দ্রা মুখার্জী, মোহাম্মদ আলী খাঁন, চঞ্চল বিশ্বাস, পার্থ প্রতীম সাহা, শেখ মাসুদুন্নবী, মশিউর রহমান অনির্বাণ, বুদ্ধদেব মন্ডল, গৌতম চৌধুরী, রাজু খান, সুবীর হালদার সহ প্রমূখ অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পীানুরাগী স্বপ্ন শিকারীর দল।festival rally
আর এ সকল সম্ভাবনাময় চিত্রশিল্পীরা প্রথম আর্ট ক্যাম্প ফেষ্টিভ্যালে এঁকেছেন ৩০০ এর বেশি চিত্রকর্ম, স্থপত্য নকশা, কবিতা, স্থপনা (ইন্সটলেশন) সহ নানান শিল্পকর্ম। আর এগুলোর মিডিয়া হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে গ্রামীন লোকজ প্রাপ্ত উপকরণ, গোবর, পাটখড়ি, সরা, কুলো, খেজুরের পাতা, মাটি, চারকোল, খড়, কালি, জল রং, প্যাষ্টেল, এক্রোলিক, পেন্সিল সহ নানান মাধ্যম। শিল্পীদের এসকল চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে সুন্দলীর ঘরে ঘরে, গৃস্থের উঠনে, গোয়াল ঘরে, বিলে নৌকার উপর, মাটির ঘরে, জনপদে এবং সেই সাথে প্রদর্শিত শিল্পকর্ম নিয়ে আনত্দরিক আড্ডা আর আলাপচারিতায় সরগরম ছিল শিল্পী, কবি আর সুন্দলীর মানুষেরা।

চার.
installation work by চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ

চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ বলেন, "World Village of Art আমাদের প্রচলিত জটিল সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে প্রকৃতির সরল এক জীবনযাত্রা। এখানে এসে আমি অভিভূত। শিল্পীদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন এখনকার দৈনন্দিন গ্রামীণ মানুষের জীবন-যাপন। যেন তারা দীর্ঘদিন এই অপেক্ষায় ছিল। বঙলা সংস্কৃতির ক্রমবিকাশে এই জনপদের মানুষ আর শিল্পী-সাহিত্যিকদের পারস্পারিক সম্পর্ক কোন দ্বন্দ তৈরি না করেই প্রকৃতির মতো নিজেরাই উজাড় করে দিয়েছেন।"
চিত্রশিল্পী জাহিদুল ইসলাম জীবন বলেন, "এটা আমাদের সকলের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। সমমনা কবি, শিল্পী, প্রেমিক, শিল্পানুরাগীদের নিয়ে কংক্রিট কোন তূরীয় অবস্থা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের সকলের স্বপ্ন, সাধনা, শ্রম এর সম্মিলিত এক কর্ম পদ্ধতির কেন্দ্রবিন্দু। শিল্পী ও মানুষের, প্রকৃতি ও সুন্দরের সহবস্থান; এ এক জীবন সাধনা। রাতারাতি সব কিছু বদলে দেবে এটা আমাদের ঘোষণা নয়। আমাদের প্রয়াশ থাকবে সম্মিলীত উচ্চকি্বত আহ্বানের দিকে। যার চেষ্টায় আমরা সকলেই নিমগ্ন হয়ে আছি।"
চিত্রশিল্পী তরিকত ইসলাম ঝন্টু বললেন, "ঐতিহ্যগত ভাবে বৃহত্তর যশোর শিল্প-সাহিত্যের প্রাচীন জনপদ ১৯০৪ সনে শিল্পী শশীভূষণ পাল মহেশ্বরপাশায়(বর্তমান খুলনা জেলায়) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রথম আর্ট কলেজ। কবি মধূসূদন দত্ত, এই জনপদেরই সন্তান। যিঁনি বাঙলা সাহিত্যের ইতিহাসই বদলে দিয়েছিলেন। তাছাড়া বিজয় সরকার, উদয় শংকর, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, কবি আজীজুল হক সহ শত-শত ব্যক্তিগণ বাঙলা সংস্কৃতির , চর্চার কোড বদলে দিয়েছেন।
চিত্রশিল্পী মো: সোহেল রানা বলেন, " এই জনপদের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস আমাদের সকলেরই জানা। সেই আদিকাল হতে শুরু করে এ পর্যন্ত বাঙলা সংস্কৃতির বিবর্তনে বৃহত্তর যশোরের জনপদ বরাবরই উর্বর। ভৌগোলিক ভাবে যশোরের প্রকৃতিতে এক রকম পাগলা হওয়ার উন্মাদনা রয়েছে। প্রকৃতি এখানে আত্মীক ভাবে শিল্পকে ব্যক্তির সাথে সমন্বয় করে উন্মাদনা। তাই যশোরের World Village of Art কোন কাকতলীয় ঘটনা নয়। উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বট বৃক্ষ এই জনপদে, প্রত্নতাতি্বক স্থাপত্য নকশার দিকে তাকালে তৎকালীন মানুষের শৈল্পিক চিত্তের সমৃদ্ধতার প্রকাশ বোঝা যায়। হযরত গরীবশাহ, গাজী কালু, চম্পাবতী সহ নাম না জানা অনেক পীর-দরবেশ, ফকির, বাউল সুন্দরবন তীরবতর্ী এই অঞ্চলে নতুনের দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ঐতিহাসিক ভাবে World Village of Art সেই ধারাবাহিকতার ফসল। সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করাই এই জনপদের মৌল বৈশিষ্ট্য।"
চিত্রশিল্পী সান্ত্বা শাহ্রীণ নিনি বলেন, " World Village of Artব্যক্তি শিল্পের সুবিধার্থে সৃষ্টির স্বপ্ন নয়। সমষ্টিক শিল্পের সামাজিক তাগিদ থেকে যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। মাটি ও মানুষের সমন্বিত সরল অথচ অপূর্ব নান্দনিক শৈলীর সংস্করণ।"
কালের বিবর্তনে একদিন নিশ্চীত করে বলতে পারি যশোরের ৯৬ গ্রাম ফাইন আর্ট (এনভায়রমেন্ট) মিউজিয়াম হয়ে উঠবে শিল্প সাহিত্যের আকাঙ্খিত এক উপাখ্যান, নির্বাণ লাভের লীলাভূমি, দুরনত্দ-দুর্দানত্দ কাজের নিমগ্ন জনপদ, মানুষ আর প্রকৃতির কার্য-কারণের কেন্দ্র হয়ে।
দার্শনিক Albert Aurrier চিত্রশিল্পী Vincent Van Gaogh -k বলেন, '`This robust and true artist, with the brutal hands of giant, with the nerves of a hysterical woman, with the soul of mystic, So original and so alone. 'সত্যিই তাই, তাই হবে না কেন!
পাঁচ.
লোকদের সবচেয়ে স্বতন্ত্র ও আত্মবদ্ধ গ্রম্নপগুলো জাত বা Castes। এটা লোকদের জন্মগত গ্রম্নপ। সমাজে যাদের এক-একটা বিশেষ স্থান থাকে। ঐতিহ্যগত বৃত্তির সঙ্গে তারা জড়িত এবং পরস্পরের মধ্য আদান-প্রদানগত কিন্তু শিল্পী-কবি জাত হিসেবে সীমাবদ্ধ না হয়ে বৈশিষ্ট্য সূচক এক আত্মবদ্ধতার রূপানত্দর, এক স্বকীয় মৌল উত্তরণের অসত্দিত্ব। তাদের মধ্যে সম্পর্ক একত্র শ্রম ও অধ্যবসায়; সহযোগীতা আর অবিচ্ছেদ্য ঐক্যের সমষ্টিক এবং ভাবাবেগের সেইৰেত্র সমাজের, শিল্পীর, কবির, সাধরণ মানুষের আত্মিক এক সেতুবন্ধন Village of Art। এর সকল কর্মসূচী প্রধানত তিনটি জিনীষ নিয়ে শিল্পির-কবির সক্রিয় অংশগ্রহণ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা, বাঙালি সংস্কৃতির আদি অভ্যাসগুলোর তীব্রায়ণ ও লালন-পালন। চাহিদার এই নতুন প্রবণতায় বাঙলী সাংস্কৃতির আয়ত্ত্বকরণ। আর সবার কাছে নিজেদের স্বক্রীয়তার বার্তা পৌছে দেওয়া। এই ঐক্যের আরো সংহতি ও বিকাশের মধ্যে যা সামাজিক ভেদ বিলুপ্ত করার সঙ্গে নিবীঢ়ভাবে একানত্দ জড়িত।
Village of Art বাঙালীদের অসত্দিত্বের আনত্দরিক পর্যায় সহনীয় করে তুলতে পারে যা প্রচলিত প্রথা পরিবর্তন না করেই। আমাদের সমগ্র জীবনই অমীমাংষেয়, মর্মানত্দিক দ্বন্দে পরিব্যপ্ত। একটি জাতির মানুষ্যজীবন তখনই অর্থহীন যখন প্রকৃতির সাথে শিল্পের ঘনিষ্ট যোগসূত্র যুক্ত না থাকে । ভাবের আদান-প্রদান ইচ্ছার স্বাধীনতা, সৃষ্টিশীল ক্রিয়াকলাপ, অধ্যবসায়, শ্রম আর সমাজের মান উন্নয়নের চেষ্টা। আপেৰিক সত্যের মতন করে আমাদের জ্ঞান ও বাসত্দব সামাজিক প্রেৰাপট এর পটভূমি। প্রকৃতির বৈচিত্রময় সত্য অর্জন চেষ্টায় Village of Art আনত্দঃর্নিহিত এক সহজাত শিল্পের - কবিতার ক্রীয়া-কলাপের মধ্যেকার সম্পর্ক যা তার গতিশীল চরিত্র আপামর পৌছেদেয় সৃষ্টিশীলতাকে। সেই সাথে সহজ প্রবৃত্তি সমেত অগ্রগতির উপলব্ধি ও দর্শনগত ছাপগুলি। যে গুলি মানুষের ক্রিয়াকলাপ ও পৃথিবীতে তার দিকস্থিতির ভিত্তি। যেগুলি একটি সুন্দর নিসর্গের অথবা একটা শিল্প বস্তুর- চিত্রাঙ্কণ, ভাস্কর্য, স্থপত্য নকশা, কাব্যচর্চা, প্রভৃত্তির নান্দনিক রসাস্বাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি Village of Art আর ৯৬ গ্রাম ফাইন আর্ট (এনভায়রনমেন্টাল) মিউজিয়াম এর সংবেদনগুলির অবধারনায় পদ্ধতি সমূহ সার্বজনীন, অর্থাৎ শিল্পের সকল ৰেত্রে অবারিত ভাবে প্রয়োগ করে।
মানুষ অপূর্ণ বা অবস্তু বলেই পূর্ণতা লাভ করতে চায়। মানুষ চায় বস্তুরমতো পরিপূর্ণ হতে। কিন্তু চেতনাকে হারিয়ে নয়। মানুষ হওয়া মানেই ঈশ্বর হবার আকাঙ্খা করা- মানুষের এ আকাঙ্খা স্বভাবগতভাবেই জন্মগত। তাই ঈশ্বরের পরিপূর্ণতার নিমন্ত্রণ হয়ে Village of Art শিল্প-সাহিত্যের গ্রাম বলা যেতে পারে। এক কথায় ঈশ্বরেরগ্রাম।
deep in dreams!
ছয়.
বিচ্ছিন্ন জলাবদ্ধ জনপদ ছিয়ানব্বই গ্রামের জন্য হয়তবা আর রিলিফের গম লাগবে না কোনদিনই।
স্থানীয় অধিবাসী এই জনপদের সাধারণ মানুষের কৌতুহলের কোন শেষ নেই। তাদের আন্তরিকতা, আতিথিয়ত্য, শিল্পের সাথে একাত্মতা পোষণ, অংশগ্রহণকারী এবং শিল্পানুরাগী অতিথিদের গ্রহণ শিল্প-সাহিত্য সম্ভাবনায় উভরণে অনুসঙ্গ যোগাবে নিয়ত। এমনিই জাতি হিসেবে আমরা অতিথিপরায়ন, আন্তরিকতা আমাদের সহজাত বৈশিষ্ট্য। Village of Art নির্মাণের স্বপ্ন বস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনপদবাসী আর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চলেছে অদৃশ্য চাপা গোপন প্রতিযোগীতা, "কে কার চেয়ে বেশী উজাড় করে দিবে সর্বস"। দূর্গা পূজার দশমীর আরতি অনুষ্ঠানে তাই আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে শিল্পীরা একত্রে আরতিতে মেতে উঠেছিলেন জনপদের সাধারণ মানুষের সাথে। জাত, ধর্ম, বর্ণ কোন কিছুই বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। এরা সবাই শিল্পী, তাই তাদের সমমনা সহ অবস্থান প্রাণে-প্রাণ মিলিয়েছে আগামীর সম্ভাবনায়!
সেখানে যে প্রাণের খোরাকের ছড়াছড়ি। এই জনপদে মধুসূদন, কবি আজীজুল হক, চিত্রশিল্পী এস. এম. সুলতান সহ প্রখ্যাত প্রাণের আবারিত যাতায়াত ছিল এক সময়ে । তাইতো এই জনপদে সর্বদা সৃষ্টীর তারূণ্য লালণ করে।
Village of Art এর একটা স্বতন্ত্র উন্মুক্ত ভবিষ্যত রয়েছে এবং ভবিষ্যৎএর দিকে ধাবিত হবার নিজস্ব এক ৰমতা আছে । তাই সে নিজেকে অতিক্রম করতে পারে এবং আরো অনেক কিছু করার স্বপ্ন দেখায়। যা কিছু ঘটে তা এ জগতেই ঘটে।
এভাবে এগিয়ে যাবে যশোরের সুন্দলীর পথে-প্রানত্দরে।
-----------------------------------------------------------------------------!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
NB:সৌজন্যে Bornika Home : আলোকচিত্র : সৌজন্যে চিত্রশিল্পী মো: সোহেল রানা, Village of Art, ছিয়ানব্বই গ্রাম ফাইন আর্ট (এনভায়রনমেন্টাল) মিউজিয়াম, যশোর। বিশেষ ধন্যবাদ : শিকদার খালিদ, সাংবাদ-শিল্পী ও যশোর প্রতিনিধি বেঙ্গলবার্তা, রোমানা সিনথিয়া, তরূণ কবি।
NB: -more image & Video Link:
-----------------------------------------------------------------------------!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
the pAin by s.T.ullaH, media-pastel & color pencil, paper cutting.
NB: -more image & Video Link:
সৌজন্যে Bornika Home : আলোকচিত্র : সৌজন্যে চিত্রশিল্পী মো: সোহেল রানা, Village of Art, ছিয়ানব্বই গ্রাম ফাইন আর্ট (এনভায়রনমেন্টাল) মিউজিয়াম, যশোর। বিশেষ ধন্যবাদ : শিকদার খালিদ, সাংবাদ-শিল্পী ও যশোর প্রতিনিধি বেঙ্গলবার্তা, রোমানা সিনথিয়া, তরূণ কবি।

(All Rights Reserved by: সৈয়দ তৌফিক উল্লাহ, http://www.facebook.com/stullah , 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Google+ Badge

send or tell a frind

voice of the protestant


take a look!

Translate

Sayed Taufiq Ullah