পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ৬ মে, ২০১৬

এক দশকেও শুরু হয়নি মা-মেয়ে হত্যার বিচার

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাবেরা বেগম (৫০) ও তার একমাত্র মেয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্রী শারমিন সুলতানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ১২ বছরেও শুরু হয়নি। মামলার দীর্ঘসূত্রতায় আসামিরা জামিন পেয়েছেন। জামিন পেয়ে পলাতক হয়েছেন দুই আসামির একজন জাহাঙ্গীর।

২০০৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর গুলশানের নিজ বাসায় খুন হন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাবেরা বেগম ও তার একমাত্র মেয়ে শারমিন সুলতানা। মামলার বাদী সাবেরার স্বামী সামসুল আলম মিয়া সে সময় কুমিল্লার লাকসামে ছিলেন। ১৭ ডিসেম্বর তিনি গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির আত্মীয় ও সমর্থক তপন, পবন, নুরুল ইসলামরা অস্ত্রের মুখে বাদীর স্ত্রী সাবেরা বেগমকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এ নিয়ে ঢাকার রমনা থানায় একটি মামলাও হয়। তার জের ধরে অজ্ঞাতনামা আসামিরা বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড, কেয়ারটেকার ও বাসার গৃহকর্মীদের সহায়তায় বাদির স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করে থাকতে পারেন।
মামলাটির দু’বার তদন্ত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ৪ বছরেরও বেশি সময় পর ২০০৯ সালের ২১ জানুয়ারি বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীর ও কেয়ারটেকার ওমর ফারুককে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। তারা ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত তাদের নামও প্রকাশ করেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। অবশ্য তিনি ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছুই বলতে পারেননি।
কিন্তু মামলাটি তদন্তের সময় গ্রেফতারকৃত শাহ ইমরান, জহর চন্দ্র, ফাতেমা বেগম, জাকিয়া সুলতানা বিলকিস, আবুল বাশার মিয়া, ইমাম হোসেন খান, মুক্তার হোসেন, ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম, আতিকুল গণি বোখারী, শেখ নুরুল ইসলাম, শোয়েব চৌধুরী ওরফে তপন এবং জাহিদ চৌধুরী ওরফে পবনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় এ ১২ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার দায় থেকে এ ১২ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে নারাজি দেন মামলার বাদী। তৎকালীন মহানগর দায়রা জজের আদালত মামলাটি ফের তদন্তে পাঠান।
এবার মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মনজুর মোর্শেদ মামলাটি তদন্ত করে প্রথম চার্জশিট দাখিলের ২ বছর পর ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল ওই দু’জনকে অভিযুক্ত করে ফের আদালতে চার্জশিট দেন। বাকিদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দানের সুপারিশ করেন।
বাদী আদালতে নারাজি দিয়ে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সাবেরা বেগমের বিরোধের কারণে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে আসছেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে স্রেফ নগদ টাকা আত্মসাতের জন্যই এ খুন করা হয়েছে মর্মে চার্জশিটে উল্লেখ করেন। যদিও বাদী দাবি করেন যে, তার বাসা থেকে কোনো অর্থ কিংবা মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যায়নি।
মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা আদালত হয়ে ঢাকার পরিবেশ আদালতে পাঠানো হয়। এ আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির সময় বাদীপক্ষে তার আইনজীবী ফজলুর রহমান দরখাস্ত দিয়ে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া আসামিদের মধ্যে শোয়েব চৌধুরী তপন, জাহিদ চৌধুরী পবন, আবুল বাশার, শাহ ইমরানের বিরুদ্ধেও চার্জ গঠনের আবেদন জানান।

ঢাকার পরিবেশ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মামলাটির নথি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আরেক দফা পিছিয়ে গেছে এ জোড়া খুনের বিচার।

মামলার বিষয় নিয়ে বাদীর আইনজীবী ফজলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি মিডিয়াতে কোনো কথা বলতে ও বাদীর মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি রেজাউল করিম হিরন বাংলানিউজকে বলেন, বাদীপক্ষের আইনজীবী সরাসরি এ ধরনের দরখাস্ত আদালতে দিতে পারেন না। বাদীর সকল বক্তব্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে দাখিল করতে হয়। কিন্তু ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় আদালত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

তবে আসামি ওমর ফারুকের আইনজীবী আক্তার হোসেন ভূঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, বাদীপক্ষের বারবার আবেদনের ফলে মামলার বিচার শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে করে তার আসামির অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Google+ Badge

send or tell a frind

voice of the protestant


take a look!

Translate

Sayed Taufiq Ullah