পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

কবির মৃত্যু নেই..ভালো থাকুন কবি




"আমার পরিচয়
সৈয়দ শামসুল হক
আমি জন্মেছি বাংলায়
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?
আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে
এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির বেদি থেকে।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে
আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে
আমি তো এসেছিকমলার দীঘি’ ‘মহুয়ার পালাথেকে।
আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরীয়ত থেকে
আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি অগ্নিবীণার থেকে
এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্যসেনের থেকে
এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে।
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে
এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে
আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে
আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।
এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে
শুধাও আমাকেএতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে ?
তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির ইতিহাস শোনো নাই-
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।
একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজো একসাথে থাকবোই
সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবোই
পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের-
কখনোই ভয় করিনাকো আমি উদ্যত কোনো খড়গের।
শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস;
অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ;
একই হাসিমুখে বাজায়েছি বাঁশি, গলায় পরেছি ফাঁস;
আপোষ করিনি কখনোই আমি- এই লো ইতিহাস
এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান ?
যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান;
তারই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলি-
চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস পায়ে উর্বর পলি।"


সৈয়দ হক সাহিত্যপ্রেমিদের হৃদয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই থাকবেন ... অনন্তকাল !!!
সৈয়দ শামসুল হক, আপনাকে বিদায় বলবো না  অশেষ ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা
কবির নিঃসঙ্গতার ভিতরে বিশ্ব সঙ্গ দেয় তাঁর শূন্যতার ভিতরে সমস্ত বিশ্ব ঝাঁপিয়ে পড়ে তাই আমি আজও আছি, লিখতে পারছি এবং লিখে যাচ্ছিসৈয়দ হক নিজেই বলেন,শামসুর রাহমান একটা কথা একটু দুষ্টুমি করে বলত, “কে যে হাতছানি দিল আর পথে বেরিয়ে পড়লাম, আর তো ফিরতে পারলাম নাআমি কথার পুনরাবৃত্তি করে ওর হাত ধরে বলতাম, “আপনি তো ঘাসের তলায় মাটির সঙ্গে সখ্য করে আছেন আর আমি এখনো পথে এবং এই পথটা বাংলার পথ এই পথ মানুষের পথ ইতিহাসের পথ বড় ইতিহাসের নাটকীয় সময়ের মধ্য দিয়ে পথচলা ভাঙিনি কখনো বরং উত্তোলিত হয়েছি”’
সৈয়দ শামসুল হক দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। নিউইয়র্ক থেকে তাকে চিকিৎসকরা ফেরত পাঠান। গতকাল (সোমবার) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সৈয়দ শামসুল হককে আইসিইউতে নেয়া হয়
সৈয়দ শামসুল হক নিজেই বলেছেন,‘তবে তত দিন আমি বেঁচে থাকব না আর, এই বেঁচে থাকার কালে যে বাদ্যি রব শুনিকর্কশ কি মধুর, কান তাতে দিই না কারণ, হয়ে ওঠার চেষ্টাটাই এখনো আমি করে চলেছি রেখো মা দাসেরে মনেএই পঙক্তিটি নিরন্তর আমার ভেতর থেকে উচ্চারিত হয় মধুহীন তুমি আমাকে কোরো না, হে জননী মধু নাই আহরণ করতে পারি, মধু পান করবার ঠোঁট আমার উদগ্রীব অক্ষয় রেখো তুমি।”অস্ফুট কণ্ঠে বলে চলেছেন, ‘নাহ্! কেউ নেই আমি একা! কিন্তু আমার যে কাজ, সেটা একা মানুষেরই কাজ কবির নিঃসঙ্গতার ভিতরে বিশ্ব সঙ্গ দেয় তাঁর শূন্যতার ভিতরে সমস্ত বিশ্ব ঝাঁপিয়ে পড়ে তাই আমি আজও আছি, লিখতে পারছি এবং লিখে যাচ্ছি
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৫টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮১ বছর
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুধবার সবার শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হবেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক; শেষ ঘুমে শায়িত হবেন নিজের জেলা কুড়িগ্রামে, যে মাটিতে ৮১ বসন্ত আগে তার জন্ম হয়েছিল



Google+ Badge

send or tell a frind

voice of the protestant


take a look!

Translate

Sayed Taufiq Ullah